সেঁজুতির চোখে বনানীর অগ্নিকাণ্ড

সেঁজুতির চোখে বনানীর অগ্নিকাণ্ড
সেঁজুতির চোখে বনানীর অগ্নিকাণ্ড

ঢাকা: 

রাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারের ভয়াবহ থেকে প্রাণে বেঁচে এসেছেন সেঁজুতি দৌলাহ। বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) দিনগত রাতে কর্মস্থল এফ আর টাওয়ারের সামনে আসেন তিনি।

এ সময় বাংলানিউজকে জানান তার বেঁচে ফেরার গল্প। সেঁজুতি বলেন, নিত্যদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরেও কর্মব্যস্ত সময় পার করছিলেন তারা। হঠাৎ চিৎকার আর কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পাই।

‘কিছু ঘটেছে ভেবে চেয়ার থেকে উঠে দৌড় দিই। ততক্ষণেই বুঝতে পারি ভবনে আগুন লেগেছে। তখন অফিসের সহকর্মীরাও দিগ্বিদিক  ছুটোছুটি করতে শুরু করেন।’

এফ আর টাওয়ারে থাকা ডার্ড গ্রুপে পরিচালক (অর্থ) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন সেঁজুতি। জানালেন, এফ আর টাওয়ারের ১৩ তলায় তার অফিস। সেখান থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন, তখন আগুনের এতো ধোঁয়া যে, তিনি চোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না।

পরে তিনি দৌড়ে ভবনের ছাদে চলে যান। সেখানে গিয়ে পাশের আহমেদ টাওয়ারে লাফ দিয়ে ওই ভবন দিয়ে নিচে নেমে আসেন সেঁজতি।

তার ভাষ্য, ‘যখন ছাদে যাই, তখন কিভাবে যে পাশের ভবনে গিয়েছি, তখনকার কোনো স্মৃতি মাথায় নেই। কী ভয়ংকর সে দৃশ্য, সেটা বুঝিয়ে বলা সম্ভব নয়।’

সেঁজুতি যখন তার বেঁচে যাওয়ার মুহূর্তের বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। নিজে বেঁচে গেলেও অনেক মানুষের মৃত্যু ব্যাথিত করেছে তাকে।

পড়ুন>> লাশের ব্যাগে বেজে উঠল ফোন

তিনি বলেন, মনে হচ্ছিল আজই জীবনের শেষ দিন। আসলে জীবন আর মৃত্যুর তফাৎ কী? সেটা বিপদে পড়লেই কেবল অনুভব করা যায়। যা আজ আজ বুঝতে পেরেছি।

এফ আর টাওয়ারের ২, ১২, ১৩, ১৬ ও ১৯ তলায় ডার্ড গ্রুপের কার্যালয়। টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস-ই তাদের প্রধান ব্যবসা। সেঁজুতি জানান, তার কোনো সহকর্মী নিহত হননি। তবে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ড লাগার বিষয়ে সঠিক কারণ জানি না। তবে শুনেছি ৭ম তলা থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।

এর বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ১৭ নম্বর রোডের এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

আরো নিউজ পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.