‘ভালো’ ব্যাংকেও খেলাপি বাড়ছে’

• ব্যাংক খাত
• রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বেসরকারি অনেক নামী ব্যাংকও এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
• নতুন ব্যাংকগুলোর অবস্থাও ভালো নয়।

সরকারি-বেসরকারি ২১ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৭ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে খেলাপিতে শীর্ষে থাকা পুরোনো ব্যাংকগুলো সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বেসরকারি খাতের ভালো বেশ কয়েকটি ব্যাংকও। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বেসরকারি খাতের ভালো ব্যাংকের মধ্যে ৭ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে আইএফআইসি, প্রাইম, স্ট্যান্ডার্ড, ইউসিবিএল, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটির। গত সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশে। টাকার অঙ্কে যা ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের দুরবস্থার চিত্রের কিছুটা খেলাপি ঋণের তথ্যের মাধ্যমে ক্রমেই প্রকাশ পাচ্ছে। যদিও খেলাপি ঋণের তথ্য নিয়ে ব্যাংকগুলোতে নানা রকমের ছলচাতুরী করা হয়। কেউ পুনঃ তফসিল করে খেলাপি ঋণ কমায়, আবার কেউ কেউ ঋণ পরিশোধ না হলেও তা খেলাপি হিসাবে দেখায় না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ নিয়ে বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোর যে সমস্যা রয়েছে, তা বেসরকারি ব্যাংকেও ছড়িয়ে পড়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকেরা এখন জমিদারের মতো আচরণ করছেন। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, সেপ্টেম্বর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা বা ১৯ শতাংশ, রূপালী ব্যাংকের ৪ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা বা ২২ শতাংশ। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৪ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা বা ৩১ শতাংশ ও সোনালী ব্যাংকের ১২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৬২ শতাংশ বা ৯ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা, বিডিবিএলের ৮৪৮ কোটি টাকা বা ৫৫ শতাংশ। কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২১ শতাংশ ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ২৫ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৭ শতাংশ বা ১ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা, আইএফআইসি ব্যাংকের ৮ শতাংশ বা ১ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮ শতাংশ বা ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকের সাড়ে ৮ শতাংশ বা ১ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৯ শতাংশ বা ১ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৯ শতাংশ বা ২ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা, উত্তরা ব্যাংকের ৮ শতাংশ বা ৮৩২ কোটি টাকা। এদিকে মালিকানা পরিবর্তন হওয়া সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ক্রমেই খারাপ হতে শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৭ শতাংশ বা ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।

সংকটে থাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২৬ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যা ৫৫৭ কোটি টাকা, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৭০৮ কোটি টাকা বা ৮৪ শতাংশ।

এদিকে ফারমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫৮ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যা ৩ হাজার ৭০ কোটি টাকা। মেঘনা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৩৫ কোটি টাকা বা ৮ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৩৫০ কোটি টাকা বা ৮ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে হাবিব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ বা ৪২ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৯৪ শতাংশ বা ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ৭ শতাংশ বা ৪২ কোটি টাকা।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এখন নতুন ঋণ সেভাবে বাড়ছে না। কিন্তু খেলাপি বাড়ছে। রিট ভ্যাকেট হওয়ায় অনেক ঋণ খেলাপি হিসাবে যুক্ত হচ্ছে। এ কারণে সার্বিকভাবে খেলাপি ঋণের হার বাড়ছে। সার্বিকভাবে ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.