নায়িকা ময়ূরী এখন ভারতের গুগলপ্রধান

‘পাপা ক্যাহতে হ্যায়’ ছবিতে যুগল হংসরাজের নায়িকা হয়েছিলেন ময়ূরী কঙ্গো। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শেষে ‘ঘর সে নিকালতে হি’ গানটিতে তাঁকে খুব পছন্দ করেছিলেন বলিউডপ্রেমীরা। কিন্তু হুট করে ২০০০ সালের পর অভিনয় ছেড়ে দেন তিনি। সম্প্রতি আবার ভারতে ফিরেছেন ময়ূরী। তবে অভিনেত্রী হিসেবে নয়, ভারতের গুগল ইন্ডাস্ট্রির প্রধান হিসেবে।

২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে আদিত্য ধিলো নামের এক ভারতীয়কে বিয়ে করেন ময়ূরী। তারপর স্বামীর সঙ্গে পাড়ি জমান নিউইয়র্কে। সেখানে বিপণন ও অর্থায়ন নিয়ে এমবিএ করেন তিনি। সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল করপোরেট জগতে ক্যারিয়ার গড়া। পড়া শেষে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কের বেশ কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। মা হওয়ার সময় আবার ফেরেন ভারতের নয়াদিল্লির গুড়গাঁয়ে। সেই থেকে আবারও মুম্বাই ও বেঙ্গালুরু যাওয়া–আসা শুরু হয় তাঁর।

ময়ূরী কঙ্গোময়ূরীর প্রথম ছবি ‘নাসিম’। মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। বেশ কিছু টেলিভিশন ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে ‘কহি কিসি রোজ’, ‘কিটি পার্টি’, ‘কেয়া হাদসা কেয়া হকিকত’, ‘কারিশমা: দ্য মিরাকলস অব ডেসটিনি’ উল্লেখযোগ্য। অজয় দেবগন, অনুপম খের, আরশাদ ওয়ারসি, শক্তি কাপুর, ববি দেওল, রানী মুখার্জি, চন্দ্রচূড় সিংয়ের মতো অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন ময়ূরী।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ময়ূরী বলেন, ‘নতুন কোনো ক্লায়েন্টের সঙ্গে পরিচিত হলেই তাঁদের চোখ কপালে উঠত। তাঁরা বলতেন, “আপনি এই লাইনে কীভাবে এলেন!” এতবার এ প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে যে এক সহকর্মী বলেই বসলেন, উত্তরটা যেন রেকর্ড করে রাখি। যাতে কেউ জিজ্ঞেস করলেই বাজিয়ে শোনাতে পারি। প্রতিবারই নতুন ক্লায়েন্টদের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে হতো। আমাকে যেন তাঁরা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন, এ জন্য যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।’ বলিউডের নারী শিল্পীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘অভিনেত্রীদের অবশ্যই তাঁদের পড়ালেখাটা শেষ করা উচিত। কেননা, বলিউডে তাঁদের কাজের সময়সীমা মাত্র ১০ বছর। তারপরই তাঁরা বেকার হয়ে যেতে পারেন। পড়ালেখাটা করা থাকলে চাইলে পরে অন্য পেশায় চলে যেতে পারবেন তাঁরা।’

বলিউড ছাড়লেও বন্ধুদের কথা ভোলেননি ময়ূরী কঙ্গো। প্রায়ই গৌরী প্রধান, মুকুল দেব, আরশাদ ওয়ারসি ও শ্বেতা সালভেকে মনে পড়ে তাঁর। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published.