তিনটি ফ্লোরে পোড়ার মতো কিছুই বাকি নেই

এই ভবনের বেসমেন্ট পুরোটাই গ্যারেজ। সেখানে এখনো কয়েকটি গাড়ি পার্কিং করা আছে। এখানে আগুন লাগেনি। ভবনের প্রথমটি বেসমেন্ট। প্রথম তলা থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত তেমন ক্ষতি হয়নি। এই তলাগুলোয় অবস্থিত বিভিন্ন অফিসের কর্মীরা সিঁড়ি দিয়েই বের হয়ে নিচে নেমে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী প্রথম আলোকে বলেন, সিঁড়িতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছিল। আগুনের সরাসরি আঁচ এই ফ্লোরগুলোতে সেভাবে না লাগলেও একপর্যায়ে ধোঁয়ায় ষষ্ঠ ও পঞ্চম তলা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আট তলার নিচের ফ্লোরগুলোর মধ্যে এই দুটি ফ্লোরে আগুনের কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। সিঁড়ি রুম থেকে ধোঁয়া নিচের ফ্লোরের মধ্যেও ঢুকে পড়ে। তবে আট তলার নিচের ফ্লোরের কর্মীরা নাকে কাপড় চেপে ধরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। রাতে আজ শুক্রবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের দুজন বলেন, মূলত সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলা, এই তিনটি ফ্লোর আগুনে পুড়ে গেছে। এই তিনটি ফ্লোরের কোনো কিছুই আগুন থেকে রক্ষা পায়নি। ফ্লোরগুলোর বৈদ্যুতিক তারগুলো আগুন ছড়িয়ে দিয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। যদিও এখন পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা মনে করছেন শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে এটা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

যেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে সেই অষ্টম তলায় রেস্টুরেন্ট ছিল মনে প্রথমে বলা হলেও সেখানে কোনো রেস্টুরেন্ট নেই। ভবনের প্রতিটি ফ্লোরেই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের অফিস। প্রতিটি ফ্লোরেই প্রচুর সংখ্যক কম্পিউটার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রয়েছে। এগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এই তিনটি ফ্লোর ছাড়া ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ফ্লোরেও আগুনের আঁচ লেগেছে। এই ফ্লোরগুলোতে ধোঁয়া ঢুকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। ‘সাফোকেশন’ থেকে বাঁচতে ওপরের দিকের ফ্লোরগুলোর গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়েছে। লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ফ্লোরগুলোর আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.