অ্যামাজন প্রধানের ফোন হ্যাক করেছে সৌদি আরব: তদন্ত প্রতিবেদন

অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসের ফোন হ্যাক করার ঘটনাটি সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে বলে তদন্ত শেষে জানিয়েছেন এ ঘটনায় ভাড়া করা তদন্ত দলের প্রধান গ্যাভিন ডি বেকার।

তার দাবি, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন বিক্রয় প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন প্রধান বেজোসের মালিকানাধীন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট গত বছর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডকে নিয়মিত অনুসন্ধানী কাভারেজ দেয়ার শাস্তি হিসেবে কাজটি করা হয়েছে। এই পত্রিকারই নিয়মিত লেখক ছিলেন খাশোগি।

তদন্তের ফলাফল জানিয়ে দ্য ডেইলি বিস্ট ওয়েবসাইটে লেখা এক প্রতিবেদনে ডি বেকার বলেন, ‘আমাদের তদন্তকারীরাসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ বেজোসের ফোনে ঢুকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে জেফ বেজোস অভিযোগ তুলেছিলেন, তার মোবাইল ফোন হ্যাক করা হয়েছে এবং মার্কিন ট্যাবলয়েড পত্রিকা ন্যাশনাল ইনকোয়ারার’র মূল প্রতিষ্ঠান আমেরিকান মিডিয়া ইনকর্পোরেটেড (এএমআই) বান্ধবীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁসের হুমকি দিয়েছে।

বেজোসের দাবি ছিল, এএমআই ব্ল্যাকমেইল করে বলেছে, তিনি যেন জনসমক্ষে বলেন ন্যাশনাল ইনকোয়ারারের প্রতিবেদনগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয়। নইলে তার বান্ধবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সব ছবি ফাঁস করে দেয়া হবে।

শুধু তাই নয়, প্রতিবেদনে ডি বেকার বলেছেন, অনুসন্ধান শুরুর পর এএমআই তার কাছেও দাবি জানিয়েছিল যেন তিনি তদন্ত প্রতিবেদনে বলেন, এএমআই ‘কখনোই তাদের সংবাদ সংগ্রহের কৌশল হিসেবে ইলেকট্রনিক আঁড়িপাতা বা হ্যাকিংয়ের আশ্রয় নেয় না’।

তিনি জানান, ট্যাবলয়েড পত্রিকাটি বেজোসের বান্ধবীর ভাইয়ের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে গোপন কিছু তথ্য নিয়েছিল। তবে ওই ব্যক্তির ভূমিকা এবং তাকে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট করার বিষয়টি মূল ঘটনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়ার চেষ্টা হতে পারে উল্লেখ করে এই প্রধান তদন্তকারী বলেন, মূল পরিকল্পনা শুধু একটা মানুষের কিছু টাকা হাতিয়ে নেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

‘এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে এমবিএস (সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান) ওয়াশিংটন পোস্টকে অন্যতম প্রধান শত্রু বলে মনে করেন,’ বলেন ডি বেকার। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র তদন্ত শেষে তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর মার্কিন সিনেট সিদ্ধান্তে এসেছিল যে খাশোগি হত্যার জন্য যুবরাজই দায়ী।

সৌদি সরকারের কোন অংশটিকে হ্যাকিংয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে তা স্পষ্ট করে বলেননি গ্যাভিন ডি বেকার। প্রতিবেদনেও এ নিয়ে তথ্য দিয়েছেন অল্প। তবে তদন্তের উপসংহার টেনেছেন সৌদি সাম্রাজ্যকে দোষ দিয়েই।

তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.